শেয়ার ক্যাপিটাল, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার বেসিক
সারকথা: MoA/AoA তৈরির সময় যে সংখ্যাগুলো লিখে দেন (অনুমোদিত মূলধন, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা), সেগুলোর বাস্তব প্রভাব পরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদেশি কর্মী নিয়োগ, এবং শেয়ার হস্তান্তরের সময় টের পাওয়া যায়। শুরুতেই এই মেকানিক্স বুঝে রাখলে পরে আটকে যাওয়া এড়ানো যায়।
১. অনুমোদিত বনাম পরিশোধিত মূলধন
- অনুমোদিত মূলধন (Authorized Capital): কোম্পানি সর্বোচ্চ কত টাকার শেয়ার ইস্যু করতে পারবে, তার সীমা। এটি MoA-তে লেখা থাকে এবং পুরোটা একসাথে ইস্যু করতে হয় না।
- পরিশোধিত মূলধন (Paid-up Capital): শেয়ারহোল্ডাররা আসলে কত টাকা কোম্পানিতে দিয়েছেন, তার পরিমাণ।
দেশীয় কোম্পানির জন্য অনুমোদিত বা পরিশোধিত মূলধনের কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন সীমা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পেতে সাধারণত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১,০০,০০০ ডলার (প্রায়) হওয়া দরকার হয়, তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলে এই সংখ্যা শুরুতেই মাথায় রাখুন।
২. পরিচালক
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য কমপক্ষে ২ জন পরিচালক লাগে। তারা দেশি বা বিদেশি নাগরিক হতে পারেন। পরিচালক নিয়োগ বা পরিবর্তনের সময় Form XII-এ তথ্য দিয়ে RJSC-তে জানাতে হয় (বিস্তারিত সময়সীমা দেখুন পরিচালনা পর্ষদ সভা, AGM ও মিনিটস বুক বেসিক)।
পরিচালককে অনিচ্ছার বিরুদ্ধে সরাতে হলে শেয়ারহোল্ডারদের রেজোলিউশন বা প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে যেতে হতে পারে, তাই AoA-তে পরিচালক অপসারণের নিয়ম স্পষ্ট রাখা ভালো।
৩. শেয়ারহোল্ডার
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে কমপক্ষে ২ জন ও সর্বোচ্চ ৫০ জন শেয়ারহোল্ডার থাকতে পারে (কর্মচারী-শেয়ারহোল্ডার বাদে)। এই সীমা ছাড়িয়ে গেলে কোম্পানিটি আর “প্রাইভেট” থাকে না। ESOP বা ছোট এঞ্জেল রাউন্ডে অনেক ব্যক্তি শেয়ার নিলে এই সংখ্যা হিসাব করে রাখা জরুরি।
- শেয়ার বরাদ্দ (Allotment): নতুন শেয়ার ইস্যু করার পর ৬০ দিনের মধ্যে RJSC-তে Form XV-তে বরাদ্দের রিটার্ন ফাইল করতে হয়।
- শেয়ার হস্তান্তর (Transfer): আছে এমন শেয়ার এক শেয়ারহোল্ডার থেকে আরেকজনের কাছে যাওয়ার সময় Form ১১৭ (Instrument of Transfer) পূরণ করতে হয়, শেয়ারের মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়, ও কোম্পানির শেয়ার রেজিস্টার এবং শেয়ার সার্টিফিকেট হালনাগাদ করতে হয়।
সাধারণ ভুল
- বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলেও পরিশোধিত মূলধন কম রাখা, যার ফলে ওয়ার্ক পারমিটের সময় সমস্যা হয়।
- নতুন শেয়ার ইস্যু করার পর ৬০ দিনের মধ্যে Form XV ফাইল না করা।
- শেয়ার হস্তান্তর মুখেমুখেই মেনে নিয়ে Form ১১৭, স্ট্যাম্প ডিউটি বা শেয়ার রেজিস্টার হালনাগাদ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া, যা পরে মালিকানার প্রমাণে সমস্যা করে।
- এঞ্জেল ইনভেস্টর বা ESOP-এর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার সংখ্যা না জেনে ৫০-এর সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া।
চেকলিস্ট
- অনুমোদিত মূলধন বাস্তব পরিকল্পনার সাথে মিলছে
- বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলে পরিশোধিত মূলধনের প্রয়োজনীয়তা জানা আছে
- পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা আইনি সীমার মধ্যে আছে (পরিচালক কমপক্ষে ২, শেয়ারহোল্ডার ২-৫০)
- নতুন শেয়ার ইস্যু করলে ৬০ দিনের মধ্যে Form XV ফাইল করার পরিকল্পনা আছে
- শেয়ার হস্তান্তরের সঠিক প্রক্রিয়া (Form ১১৭, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্টার হালনাগাদ) জানা আছে
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই বেসিকগুলোর পাশাপাশি মেমোরান্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন বেসিক এবং কো-ফাউন্ডার ইকুইটি স্প্লিট ও ভেস্টিং পড়ে নিন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য সবসময় একজন কোম্পানি সেক্রেটারি বা কর্পোরেট আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।