পড়ুনসম্পাদনাইতিহাস

ধাপে ধাপে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন

সারকথা: নাম ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনের বাকি কাজ মূলত কাগজপত্র প্রস্তুত, RJSC পোর্টালে অনলাইনে জমা, ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ, এবং সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন পাওয়া। প্রতিটি ধাপে কাগজ বা তথ্য ভুল থাকলে পুরো প্রক্রিয়া সপ্তাহখানেক পিছিয়ে যেতে পারে, তাই আগে থেকে পুরো তালিকা জেনে রাখা ভালো।

সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া (নাম ছাড়পত্রের পরে) কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হয়। বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে ব্যাংক এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য অতিরিক্ত সময় লাগে।

১. নাম ছাড়পত্র হাতে থাকা আবশ্যক

নিবন্ধনের আগের ধাপ হলো RJSC থেকে নাম ছাড়পত্র নেওয়া। এটি না থাকলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুই করা যায় না। বিস্তারিত দেখুন RJSC নাম ছাড়পত্র কীভাবে নেবেন

২. প্রাথমিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে)

দেশীয় প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য এই ধাপ সাধারণত লাগে না। তবে কোম্পানিতে বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামে একটি অস্থায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে পরিশোধিত মূলধন (paid-up capital) রেমিট করতে হয়, এবং ব্যাংক থেকে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হয়। বিস্তারিত জানতে বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি শুরু করার বেসিক দেখুন।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

সাধারণত এই কাগজপত্র লাগে:

  • স্বাক্ষরিত ও স্ট্যাম্প করা Memorandum of Association (MoA) ও Articles of Association (AoA)
  • Form IX: পরিচালক হতে সম্মতি
  • Form XII: পরিচালকদের বিস্তারিত তথ্য
  • সাবস্ক্রাইবার পেজ (কে কত শেয়ার নিচ্ছেন তার তথ্য)
  • পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের NID/পাসপোর্ট কপি
  • নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানার প্রমাণ
  • বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে ব্যাংক এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট

MoA/AoA টেমপ্লেট থেকে কপি-পেস্ট করে বসিয়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে কোম্পানির উদ্দেশ্য, শেয়ার স্ট্রাকচার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম লেখা থাকে। বিস্তারিত দেখুন মেমোরান্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন বেসিক

৪. RJSC পোর্টালে আবেদন জমা ও ফি পরিশোধ

RJSC-এর অনলাইন পোর্টালে লগইন করে স্বাক্ষরিত MoA/AoA ও সব ফর্ম আপলোড করতে হয়, তারপর নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ও অনুমোদিত মূলধন অনুযায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। ফি অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ অনুযায়ী বাড়ে, তাই জমা দেওয়ার আগে RJSC-এর অফিসিয়াল ফি ক্যালকুলেটর দিয়ে সঠিক খরচ হিসাব করে নিন। পুরো ফি ও সময়সীমার বিস্তারিত ভাঙন দেখুন RJSC ফি এবং সময়সীমা সংক্রান্ত প্রত্যাশা

৫. RJSC-এর যাচাই ও সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন

RJSC জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করে, সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে। সবকিছু ঠিক থাকলে একটি নিবন্ধন নম্বরসহ ডিজিটাল সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন ইস্যু করা হয়, যা কোম্পানি আইনগতভাবে অস্তিত্বে আসার প্রমাণ। কোনো তথ্যে ভুল বা অসামঞ্জস্য থাকলে RJSC কুয়েরি পাঠায়, যার উত্তর দিয়ে আবার জমা দিতে হয়, ফলে সময় বেড়ে যায়।

সাধারণ ভুল

  • MoA/AoA না বুঝে অন্য কোম্পানির টেমপ্লেট হুবহু কপি করে জমা দেওয়া
  • RJSC ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার না করে ভুল অঙ্কের স্ট্যাম্প ডিউটি বা ফি জমা দেওয়া, ফলে আবেদন আটকে যাওয়া
  • পরিচালক/শেয়ারহোল্ডারদের NID বা তথ্যে ছোট অসামঞ্জস্য রেখে দেওয়া, যা RJSC কুয়েরিতে ধরা পড়ে
  • সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই কাজ শেষ ভাবা, এবং e-TIN, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্সের মতো পরের ধাপ দেরিতে শুরু করা

চেকলিস্ট

  • নাম ছাড়পত্র হাতে আছে এবং মেয়াদ শেষ হয়নি
  • MoA/AoA পেশাদারের সাহায্যে তৈরি, স্বাক্ষরিত ও স্ট্যাম্প করা
  • Form IX, Form XII, সাবস্ক্রাইবার পেজ ও সব পরিচালক/শেয়ারহোল্ডারের কাগজ রেডি
  • RJSC ফি ক্যালকুলেটর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি আগে থেকে হিসাব করা হয়েছে
  • সার্টিফিকেট পাওয়ার পর করণীয় (e-TIN, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্স) তালিকা করে রাখা হয়েছে

পরবর্তী পদক্ষেপ

সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন হাতে পাওয়ার পর কোম্পানি নিবন্ধনের পর প্রথম ১০টি কাজ এবং শেয়ার ক্যাপিটাল, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার বেসিক পড়ে পরের ধাপগুলো গুছিয়ে নিন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য একজন কোম্পানি সেক্রেটারি বা কর্পোরেট আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

প্রাসঙ্গিক সূত্র